cPanel কি? cPanel এর কাজ কি?

cPanel কি? cPanel এর কাজ কি?

আমরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে থাকি। ওয়েবসাইট গুলো ইন্টারনেটে ওয়েব সার্ভারে হোস্ট করা থাকে। সার্ভার গুলো সবসময় চালু থাকে যার ফলে ওয়েবসাইট গুলো সবসময় অনলাইন থাকে। যদিও আপনার নিজের কম্পিউটারকে আপনি সার্ভার বানিয়ে ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারবেন, কিন্তু যখনি কম্পিউটার অফ করবেন তখন আর ইউজার আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবে না।

এই কারণে মানুষ হোস্টিং কোম্পানি থেকে সার্ভার স্পেস কিনে থাকে। হোস্টিং কেনার পর তাতে কিছু কমন সেটিংস্‌ করতে হয়। এছাড়া আপনার কেনা সার্ভার স্পেস রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারনা থাকতে হয়। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা সি প্যানেল কি? এবং এর কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করবো।

cPanel কি?

cPanel কি? সি প্যানেল হলো একটি কন্ট্রোল প্যানেল যা ওয়েব হোস্টিং ম্যানেজ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সি প্যানেল একটি ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল সফটওয়্যার। এটি তৈরি করেছে সি প্যানেল এল এল সি নামক কোম্পানি।

cPanel সার্ভার সেটআপ থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট লাইভ করা পর্যন্ত সকল কাজ করে। এর থ্রি টায়ার স্ট্রাকচার একজন সার্ভার ওনারকে আডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট দেয়। যদিও সি প্যানেলের ফিচার গুলো লিমিটেড তবে WHM এর সাথে কানেক্ট হয়ে আনলিমিটেড সাপোর্ট দেয়।

সি প্যানেলের GUI, API এবং কমান্ড লাইন ইন্টারফেস আছে। এর API ফিচার থার্ড পার্টি সফটওয়্যার বা কোম্পানিকে তাদের সার্ভিস ম্যানেজ করার ফাংশনালিটি দেয়। cPanel প্রায় সকল ধরনের ওয়েব সার্ভার সাপোর্ট করে। ডেডিকেটেড বা ভার্চুয়াল ওয়েব সার্ভার ম্যানেজ করার জন্য সি প্যানেল বেস্ট।

cPanel এর কাজ কি?

 

আমরা জানি যে cPanel একটি ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল। অর্থাৎ ওয়েব হোস্টিং ম্যানেজ করাই এর কাজ। যেমন আমরা যখন কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপ অনলাইনে হোস্ট করতে চাই তখন আমাদের সার্ভারে তা আপলোড করতে হয়। যদিও আপলোড করার জন্য এফ টি পি সার্ভিস ইউজ করা যায়। কিন্তু এর বাইরেও অনেক অনেক কাজ করতে হয়।

সবার প্রথমে আপনাকে হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন অ্যাড করতে হবে। যদি একই কোম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে থাকেন তাহলে সেটআপ করতে হবে না। কিন্তু আলাদা আলাদা কোম্পানি থেকে কিনলে তখন সেটআপ করতে হবে।

ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফিচার যেমন এসএলএল সিকিউরিটি, স্পেস, সাব-ডোমেইন, ইমেইল সার্ভার, স্ট্যাটিস্টিক সহ অন্যান্য অনেক বিষয় আছে যা সি প্যানেল দিয়ে সেটআপ এবং এডিট করতে হয়। মোটকথা একটি হোস্টিং এর সকল ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং কনফিগারেশন করার জন্য cPanel ইউজ করা হয়।

cPanel কেন ব্যবহার করা হয়?

আমরা যখন কোন ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাই তখন আমাদের ডোমেইন এবং হোস্টিং এর প্রয়োজন পড়ে। কেন প্রয়োজন পরে তা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। তো যখন ডোমেইন কেনা হয় তখন তার একটা কন্ট্রোল প্যানেল থাকে যা ডোমেইনটি সঠিকভাবে অনলাইন থাকতে সহায়তা করে। যেমন ডোমেইন সঠিকভাবে কাজ করতে তার আইপি, ডিএনএস, সিনেম ডাটা, এএএ ডাটা ইত্যাদি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সেটআপ করার প্রয়োজন পরে।

ঠিক তেমনি ওয়েবসাইট সঠিকভাবে ইন্টারনেটে অনলাইন থাকার জন্য যে হোস্টিং স্পেস নেওয়া হয় তার মধ্যেও অনেক সেটিং করতে হয়। যেমন ভিন্ন ডোমেইন হোস্টিং প্রোভাইডার হলে হোস্টিং এর সাথে ডোমেইন সেটআপ করতে হয়। সঠিকভাবে ডিএনএস ডাটা সার্ভারে না বসালে উক্ত ওয়েবসাইট অনলাইনে পাওয়া যাবে না। এছাড়া একটি ওয়েবসাইটের অনলাইনে থাকার যাবতীয় সেটিংস্‌ সি প্যানেলে থাকে।

সি প্যানেল ইউজ করার অন্যতম কারণ সঠিকভাবে সার্ভার সেটআপ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। কারণ সি প্যানেলে সার্ভার সেটআপ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য বিভিন্ন দরকারি টুল দেওয়া আছে। এগুলো ইউজ করে সার্ভারে নতুন ডোমেইন বা ওয়েবসাইট অ্যাড করা থেকে ইমেইল এবং অন্যান্য অনেক পরিষেবার সুবিধা পাওয়া যায়।

cPanel কেন জনপ্রিয়?

সি প্যানেল হলো লিনাক্স ভিত্তিক একটি জনপ্রিয় ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল। এর পপুলারিটির প্রধান কারণ ওয়েব হোস্টিং ম্যানেজ করার জন্য যা যা অপশন এবং টুল দরকার তার সবকিছু এর মধ্যে আছে। প্রতিটি অপশন এবং টুল ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাগ করা আছে। এতে সহজেই নেভিগেট করা যায়। তাছাড়া সকল টুল এবং অপশন একত্রে পাওয়া যায়। যে কারণে কোন প্রয়োজনীয় টুল বা অপশন খোঁজার জন্য অন্য কথাও যেতে হয়না।

এখানে সফটওয়্যার ইন্সটল করা থেকে শুরু করে ডোমেইন সেটআপ, এফটিপি অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট, ইমেইল ম্যানেজমেন্ট, রিসোর্স মনিটরিং সহ ওয়েব সার্ভার রিলেটেড সব কাজ করা যায়। যে কারণে অন্যান্য কন্ট্রোল প্যানেলের থেকে ডেভেলপার এবং ওয়েবসাইট ওনাররা সি-প্যানেল পছন্দ করে।

সর্বোপরি এর কিছু গুনাগুণ আছে যা একে জনপ্রিয় করে তুলেছে। যেমন এর সিম্পল ইউজার ইন্টারফেসের কারণে অন্য প্যানেল থেকে এটি সহজে ম্যানেজ করা যায়। লিনাক্সে তৈরি জন্য অতিরিক্ত কোন রিসোর্স ইউজ করেনা যে কারণে অনেক ফাস্ট।

এর ফাইল ম্যানেজার অনেক সুন্দর এবং প্রয়োজনীয় ফিচার দ্বারা পরিপূর্ণ। এছাড়া সহজ এফটিপি এবং ডাটাবেস ক্রিয়েট করা ছাড়াও যে কোন প্রয়োজনে সাপোর্টে যোগাযোগ করলে হেল্প পাওয়া যায়। তো এসব মিলিয়েই cPanel বর্তমান সময়ে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল।

পেইড cPanel এবং ক্রাক সি প্যানেল

সি প্যানেল মূলত একটি পেইড ওয়েব হোস্টিং ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। বর্তমানে এর ৪টি আলাদা আলাদা প্যাকেজ চালু আছে যেখানে একাউন্ট ইউজ করার উপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন সি প্যানেল অ্যাডমিন প্যাকেজে সর্বোচ্চ ৫টি অ্যাকাউন্ট ইউজ করা যাবে। যার জন্য প্রতি মাসে ২২ ডলার করে খরচ করতে হবে। এভাবে অ্যাকাউন্ট নাম্বার যত বাড়বে প্রাইস তত বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে সিপ্যানেলের Solo, Admin, Pro এবং Premier প্যাকেজের জন্য পর্যায়ক্রমে মাসিক 15, 22, 32.25 এবং 48.50 ডলার খরচ করতে হয়। পার্সোনাল ইউজ করার জন্য প্রথম দুইটি প্যাকেজ বেশি উপযুক্ত। অন্যদিকে হোস্টিং কোম্পানি পরিচালনার জন্য পরের দুইটি প্যাকেজ সবথেকে বেশি উপযুক্ত।

ওয়েব হোস্টিং কোম্পানিগুলো cPanel সহকারে সার্ভিস অফার করে থাকে। আর সিপ্যানেল সার্ভিস পেইড হওয়ার কারণে সিপ্যানেল সংযুক্ত হোস্টিং প্যাকেজের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে অনেক আনপ্রফেশনাল হোস্টিং সার্ভিস প্রভাইডার পেইড সিপ্যানেলের বদলে ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

নিজের এবং ক্লাইন্টের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ক্র্যাক সফটওয়্যার ইউজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ কারণে যখন ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস নিতে যাবেন তখন পরিচিত প্রভাইডার বা রিসেলারের কাছ থেকে কিনবেন। এতে ঝামেলাহিন পেইড সার্ভিস ইউজ করতে পারবেন। মোটকথা ক্র্যাক সিপ্যানেল কখনোই ইউজ করবেন না।

কোথায় থেকে cPanel লাইসেন্স কিনবো?

cPanel তার নতুন ইউজারদের জন্য ১৫ দিনের ফ্রি লাইসেন্স প্রদান করে। এছাড়া তারা তাদের সকল প্লানের লাইসেন্স দুইটি মাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করে। প্রথমটি হলো সিপ্যানেল পার্টনার অ্যাকাউন্ট এবং দ্বিতীয়টি হলো সিপ্যানেল স্টোর। সিপ্যানেল পার্টনার প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত অ্যাকাউন্ট দিয়ে manage2.cPanel.net লিঙ্কে গিয়ে লগইন করতে হবে। সেখানে লাইসেন্স কেনার সকল পদ্ধতি দেওয়া আছে।

অন্যদিকে সিপ্যানেল স্টোরের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট দিয়ে সরাসরি cPanel স্টোর থেকে লাইসেন্স কিনতে পারবেন। যে কোন লাইসেন্স প্যাক কেনার পর যদি অর্ডার ক্যান্সেল করে রিফান্ড দাবি করেন তাহলে রিফান্ড পাবেন। তবে তাদের রিফান্ড পলিসি অর্ডার করার ৫ দিন পর্যন্ত কাজ করে। অর্থাৎ লাইসেন্স কেনার ৫ দিনের মধ্যে আপনাকে তাদের জানিয়ে অর্ডার বাতিল করতে হবে। পাঁচ দিন পার হয়ে গেলে আর রিফান্ড পাবেন না।

উপরের আলোচনায় সিপ্যানেল কি, এর কাজ কি এবং দাম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ইন্টারনেটের যুগে ওয়েবসাইট একটি কমন বিষয় যার সাথে সিপ্যানেল সরাসরি জড়িত। তাই আমাদের সবার এই বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এবং অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। আশাকরি লেখাটি পড়ে সিপ্যানেল সম্পর্কে আপনার ধারনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আপনার মতামত অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ।

আরো জানতে যোগাযোগ করুন: +8801721319155 (whatsapp)

aqait
Privacy Overview

This website uses cookies so that we can provide you with the best user experience possible. Cookie information is stored in your browser and performs functions such as recognising you when you return to our website and helping our team to understand which sections of the website you find most interesting and useful.